বাংলার শিকড়ের সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে ‘পাইচো চোরের কিচ্ছা’: কাজী চপল

275 views

এম রহমান।। ঢাকার মঞ্চে যে গুটি কয়েক আঞ্চলিক ভাষার নাটক দর্শকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করতে করতে পেরেছে তার মধ্যে ঢাকা পদাতিকের ‘পাইচো চোরের কিচ্ছা’ অন্যতম। গ্রামীণ সংস্কৃতির পটভূমিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হওয়া গবেষণাধর্মী এই নাটকটির গল্প সংগ্রহ, নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী চপল।

 

আগামি ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত এই নাটকটির ৫০তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

 

নাটকের পটভূমি হিসেবে খুলনা অঞ্চলের লোক সংস্কৃতিকে বেছে নেয়ার কারণ জানতে চাইলে নাটকটির নির্দেশক কাজী চপল বলেন- আমার মামা বাড়ি খুলনায়। আমি খুলনা অঞ্চলের লোক গান-নাটক দেখেই বড় হয়েছি। তো ঢাকায় আসার পরে দেখলাম বাংলার লোক সংস্কৃতি কেন্দ্রিক কিছু নাটক নির্মিত হলেও খুলনা অঞ্চলের লোক সংস্কৃতি সেখানে অনুপস্থিত। কারণ ফোক ঘরণার বেশিরভাগ নাটকই তখন নির্মিত হচ্ছিল ময়মনসিংহ গীতিকাকে নির্ভর করে। অথচ খুলনা অঞ্চলে রয়েছে লোক সংস্কৃতির বিশাল এক ভান্ডার। তখনই আমি এই নাটকটি করার সিদ্ধান্ত নেই। মূলত আমি এই নাটকটির মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলের তথা বাংলার শিকড়ের সংস্কৃতিকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছি।

 

এই নাটকের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কি সবাই খুলনা অঞ্চলের? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন- না না মোটেও তা নয়। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মাত্র ২-৩ জনের বাড়ি  খুলনায়। অন্যদের বাড়ি বাংলাদের বিভিন্ন অঞ্চলে। বস্তুত তারা সবাই অনেক কষ্ট করে খুলনার ভাষাটা আয়ত্ত্ব করেছে। এমনকি তাদেরকে খুলনা অঞ্চলের মানুষের হাঁটা-চলা, কথা বলার ধরণ, জীবন ধারণ পদ্ধতি-সব কিছু সম্পর্কেই ধারণা লাভ করতে হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাসের অধ্যবসায় এবং রিহার্সেলের ফলেই তা সম্ভব হয়েছে।

 

তবে এ নিয়ে কিছু মজার ঘটনাও আছে। একবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একটি প্রদর্শনীর পর কিছু দর্শক আসল আমার সাথে দেখা করতে। তারা ভেবেছিল নাটকের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সবাই খুলনা অঞ্চলের। তো তারা সবাই প্রশংসা করছিল যে খুলনা থেকে এতগুলো মানুষ ঢাকায় এসেছে নাটক করতে। কিন্তু যখন তারা জানতে পারল যে নাটকের বেশিরভাগ অভিনেতা-অভিনেত্রীই খুলনা অঞ্চলের নয় তখন তারা খুব অবাক হয়েছিল।

 

আরেকবার কলকাতার ফাইন আর্টস মিলনায়তনে আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। নাটক প্রদর্শনী শেষে দর্শকরা আসন ছেড়ে উঠছিল না তাদের দাবি তারা নাটকের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সাথে একটু কথা বলবে কারণ বাংলার লোক সংস্কৃতিকে এভাবে মঞ্চে তুলে আনতে নাকি তারা এর আগে দেখেননি। একজন নির্দেশক হিসেবে এই ঘটনা গুলো আমাকে অনেক বেশী অনুপ্রাণীত করেছিল।

 

৫০তম মঞ্চায়ন নিয়ে বিশেষ কোন পরিকল্পনা আছে কিনা এর জবাবে তিনি বলেন- যেহেতু ৫০তম প্রদর্শনী সেহেতু কিছুটা উদযাপন তো করতেই চাই। তবে খুব বেশি আড়ম্বরপূর্ণ করার পরিকল্পনা নেই। প্রদর্শনী শেষে কেক কাটা হবে। দলের সবাইকে নিয়ে একটু আনন্দ-আড্ডা হবে। তবে সবচেয়ে বড় পাওয়া হবে যদি দর্শকরা হলে এসে নাটকটি দেখে। আমরা আমাদের দর্শকদের নিয়ে এই ৫০তম প্রদর্শনীটি উদযাপন করতে চাই।

 

নাটকটি নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন- নাটকটিতে খুলনা অঞ্চলে লোক সংস্কৃতির মাধ্যমে আমি মূলত বাংলার শিকড়ের সংস্কৃতিকেই তুলে ধরতে চেয়েছি যাতে করে নতুন প্রজন্ম বাংলার এই শিকড়ের সংস্কৃতিকে ভুলে না যায়। আমি এই নাটকটি মঞ্চায়নের মাধ্যমে সারা বিশ্বে বাংলার এই শিকড়ের সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করতে চাই।

 

ঢাকা পদাতিকের ২০১২ সালে মঞ্চে আসা এই নাটকটির ৫০তম প্রদর্শনীতে বিভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে সালাউদ্দিন রাহাত, কাজী শিলা, রিয়াজ আহমেদ, মাসুদ আহমেদ, জাকারিয়া কিরণ, শ্যামল হাসান, পিয়া, মুমু, তন্দ্রা, তন্নি, সম্রাট, সুমন, শাওন, লিটন, নিপা, জাহাঙ্গীর, কবির, কাজী আমিনুর, দেবাশীষ বড়ুয়া, সজল, সুমন দত্ত, আল আমিন প্রমুখকে।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

*