মঙ্গলনান্দি’র নাট্যমঙ্গল সেলিমের স্বপ্নের শিল্পতীর্থ

822 views

মোস্তাফা কামাল যাত্রা

 

নাটক আর নাট্যাঙ্গনের মঙ্গল এবং বাংলা নাট্যকে বিশ্ব নাট্যগ্রামে এক মর্যাদাকর আসনে অধিষ্ঠিত করার আকাঙ্খায় আকাঙ্খিত স্বপ্নিল পুরুষ নাট্যাচার্য ড. সেলিম আল দীনের শিল্পতীর্থ প্রস্তাবিত ‘ওয়ার্ল্ড কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে এবছর তাঁর জন্মগ্রাম সেনরখিলে উদযাপিত হয়েছে তাঁর ৬৭ তম জয়ন্তী।

 

বিগত ১৮ আগষ্ট ২০১৬ নাট্যাচার্যের পৈত্রিক বাড়ির ছাদে ‘সেলিম আল দীন সেন্টার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত জয়ন্তী অনুষ্ঠানের সহকর্মী শাকিলা তাসমিন কাজরী’র আমন্ত্রণে একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষি হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। আয়োজনে আরো যোগ দিয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে পড়ুয়া বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের ২৫ জন শিক্ষার্থী।

 

নাট্যাচার্যে শিল্পদর্শনকে চর্চা আর বহুমাত্রিক বিশ্লেষনের মাধ্যমে তৃণমূল মানুষের মানসপটে ধারনযোগ্য করে তোলার বাসনা নিয়ে পরিবারের তরুন সভ্যদের পক্ষে একটি নাট্য উদ্যোক্তা সংস্থা হিসাবে কাজ করবে এমন প্রত্যাশা নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘সেলিম আল দীন সেন্টার’।

 

শিল্পতীর্থ ‘ওর্য়াল্ড কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার অভিপ্সা নিয়ে গঠিত ‘সেলিম আল দীন সেন্টার’ কাজ করে যাবে বলে জয়ন্তী অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে ঘোষণা দিয়েছে সংগঠকবৃন্দ। নাট্যাচার্যের তিন তলা বাড়ির ছাদে উদযাপিত এই জয়ন্তীর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাট্যচার্যের স্নেহধন্যা শাকিলা তাসমিন কাজরী। তিনি জানান: প্রয়ানের বছর খানেক পূর্বে কোন এক জোৎস্নাস্নাত রাতে নাট্যচার্য তাঁর সেই প্রিয় ছাদে শুয়ে ছিলেন। কাজরী ছাদে গিয়ে দেখেন সাদা কাপড়ে ঢাকা কেউ একজন ছাদ মেঝেতে সটান হয়ে আছেন। ভয় পেয়ে সে চিৎকার করে ওঠে। তখন নাট্যাচার্য বলেছিলেন ‘আমিরে ভয় পাওয়ার কিছু নেই’।

 

কাজরীর স্মৃতিচারণ থেকে আরো জানা যায় যে : আসলে নাট্যাচার্য পরিহিত সাদা লুঙ্গিটি বুক পর্যন্ত তুলে লম্বা হয়ে শুয়ে থেকে কেবলমাত্র জোৎস্নাস্নাত হচ্ছিলেন তা নয়; তিনি মৃত্যুর অমানিশাকে উপলব্দি করছিলেনও বটে। নানান আলোচনার এক পর্যায়ে নাট্যাচার্য সেই রাতে কাজরীকে অনুরোধ করেন যেন তাঁর মৃত্যুর পর এই ছাদ মেঝেতে বর্ণিল আয়োজনে প্রতিবছর তাঁর জন্মদিন পালন করা হয়। নাট্যাচার্য কাজরীকে আরো বলেছিলেন, তাঁর জন্মভূমি ফেনীতে যেন তাঁর প্রস্তাবিত ‘ওয়ার্ড কালচারাল সেন্টার’ গড়ে তুলতে পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হয়।

সেলিমের স্বপ্নের শিল্পতীর্থ

নাট্যাচার্যের ৬৭তম জয়ন্তী অনুষ্ঠানে কাজরীসহ উপস্থিত পরিবারের সভ্যগণ স্ব স্ব স্মৃতিচারণে দৃঢ়তার সাথে প্রত্যয় ব্যক্ত করে ঘোষনা করেন যে, পরিবারের পক্ষ থেকে নাট্যাচার্যের সেই স্বপ্নের শিল্পতীর্থ প্রতিষ্ঠার কাজকে এগিয়ে নিতেই গড়ে তোলা হয়েছে ‘সেলিম আলদ্বীন সেন্টার’।

 

সেনরখিল গ্রামে অবস্থিত মঙ্গলনন্দি বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়’র প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাট্যাচার্য পরিবর্তি জীবনে লিখেছিলেন কালজয়ী নাটক ‘কেরামত মঙ্গল’। মধ্যযুগের সাহিত্যর লুকায়িত প্রবণতা নিয়ে তাঁর গবেষণা আমাদের জন্য এক অনন্য নির্দেশনা। যা মঙ্গল কাব্য বলে খ্যাত। তাই আমি তাকে মঙ্গলনন্দি’র ‘নাট্যমঙ্গল’ বিশেষণে অবিহিত করতে চাই। কারন ‘মঙ্গল’ শব্দটি তাঁর নিউরনের সাথে মিশে যাওয়া এমন একটি শব্দ যা তাকে জীবনব্যাপি তাড়িত করে বেড়িয়েছে। যার প্রতিফল তাঁর সকল শিল্পকর্মে বহমান। যে কারণে নাটকের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি বৈশ্বিক মঙ্গল এবং মঙ্গলময় বিশ্বগ্রাম গড়ে তোলার পাশাপাশি এক মানবতাপূর্ণ দার্শনিক ও শৈল্পিক সমাজ মানস নিশ্চিত করতে একটি বিশেষায়িত প্রচেষ্টা হিসাবে ‘ওয়ার্ল্ড কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে মৃত্যু নাট্যমঙ্গল সেলিম’র সেই শিল্পদর্শন চর্চা ও অনুশীলনের ক্ষেত্রকে তাঁর জীবদ্দশায় বাস্তব রূপ দিতে দেয়নি। আশা করছি নাটকের মঙ্গল আকাঙ্খি সর্বমহল নাট্যমঙ্গল সেলিম’র সেই মানবিক ধারনাকে স্ব স্ব ক্ষেত্র থেকে বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবেন।

 

৬৭ তম জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের বক্তাগণও সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যজন হলেন- নাট্যমঙ্গল সেলিম’র ভাতিজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ফিল্ম এন্ড ষ্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী কুদরত ই খুদা পিকাসো, ভাগ্নে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাজীব সরওয়ার এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়স্থ রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক মো: নিয়াজ উদ্দিন প্রমুখ। পরিবারের সভ্যগণ অনুষ্ঠানে নাট্যমঙ্গল সেলিম’র স্বপ্নের শিল্পতীর্থ ‘ওয়ার্ল্ড কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার পক্ষে ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ঘোষনা করেই বক্তব্য রাখেন। যা একটি আশা জাগানিয়া দিক।

 

নাট্যমঙ্গল সেলিম’র ভাগ্নে অধ্যাপক নিয়াজ বলেন- উপনিবেসিক ধ্যান ধারনার বিপরীতে রবীন্দ্র উত্তর শেকড় সন্ধানী উত্তরাধনিক নাট্যব্যক্তিত্ব ড. সেলিম আল দীনের সকল নাট্যকৃতি, কর্মপ্রয়াস ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দর্শনের ফসল ও সার্থক বাস্তবায়ন। ড. সেলিম আল দীন এর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর নিজভূম থেকেই তাঁর সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নের পথকে প্রশস্থ করা হবে। তিনি আরো বলেন, ড. সেলিম আল দ্বীনের প্রস্তাবিত শিল্পতীর্থ ‘ওয়ার্ল্ড কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে নাট্যামোদী, শিল্প রসিক স্থানীয় প্রশাসন এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্ত্বক সমর্থন প্রয়োজন। পরিবারের এই উদ্যোগ সকলকে আন্তরিকতা নিয়ে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানাই।

 

সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া জয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালার প্রারম্ভে কেক কেটে উদযাপন কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর নাট্যাচার্যের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় ‘সেলিম আল দীন থিয়েটার’ ও ‘এভার গ্রীন স্পোর্টস ক্লাব’। স্মতিতর্পন শেষে ‘নাট্যমঙ্গল সেলিম’ রচিত নাটক নিমর্জন’র পাঠ্যাভিনয় করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের বিভিন্ন কোর্স-এ পড়ুয়া শিক্ষার্থীবৃন্দ। নাটকটির নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন শাকিলা তাসমিন কাজরী। পাঠ্যাভিনয়ে অংশগ্রহন করে অথৈ, মাসুম, রিজা, চাঁপা, রিপন, সুমা, সাদ্দাম, আসিফ, নিশি, তামান্না, সাবা, সৈকত প্রমুখ।

 

পাঠাভিনয়কৃত উক্ত ‘নিমর্জন’ নাটকে যুদ্ধ বিদ্ধস্থ অবস্থা আর অবস্থান বিনির্মাণে ধর্ম এবং রাজনীতির নেতিবাচক ভূমিকা ফুটিয়ে তুলে ‘নাট্যমঙ্গল সেলিম’ মানবিকতার বিকাশ যে রূদ্ধ হয়ে পড়েছে সেই সমাজ বাস্তবতা চিত্রিত করেছেন।

সেলিমের স্বপ্নের শিল্পতীর্থ

৬৭তম জয়ন্তীর সেই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থী সুমা এবং স্নাতক ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মাসুদ বলেন- প্রতি বছর এই দিনে এই ছাদমঞ্চে উপস্থিত থাকতে চাই। আয়োজকগণ যেন আমাদের অন্তত একটা ডিজিটাল দাওয়াত পাঠায়। আর সুমা বলেন- সেলিম স্যারের রচনাভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করতো। তার স্মৃতিধন্য এই গ্রামের বাড়িতে এসে তাঁর সাহিত্য কর্মে উল্লেখিত অনুষঙ্গও নির্দেশনসমূহ সরাসরি দেখা আমার জন্য এক বড় পাওয়া। বিশেষ করে বাড়ির পুকুর ঘাটে বসে শতবর্ষী আলোচ্য সেই ছাতিম গাছকে চাক্ষুষ দেখা আমার জন্য একটি বিশেষ অনুভূতি। কারণ সেলিম স্যারের লিখনিতে বেশ কয়েকবার তিনি ছাতিম ফুলের গন্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। আরো দেখেছি ‘পুত্র’ নাটকে উপজিব্য স্থান ও পাত্র-পাত্রীদের।

 

অনুষ্ঠানে নাট্যমঙ্গল সেলিম’র সৃষ্টি ও কর্ম নিয়ে স্ব-রচিত কবিতা পাঠ করেন তরুন কবি সজীব ওসমান এবং নাছির রিয়াজ রচিত কবিতা আবৃত্তি করেন নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী বিন্তি।

 

সবশেষে পরিবেশিত হয় নাট্যমঙ্গল সেলিম কে নিয়ে তাঁর মৃত্যুর পূর্বে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘ধ্রুবতারার নকশী কাঁথা’। মেহেদী  হাসান নির্মিত এই তথ্যচিত্রটি গ্রন্থনা করেছেন নাট্যমঙ্গল সেলিম’র ভাবশিষ্য নাট্যকার ও নির্দেশক ড. রুবাইয়াৎ আহমদ। চমৎকার গ্রন্থণার মাধ্যমে গ্রন্থিক জনাব রূবাইয়াৎ নাট্যমঙ্গল সেলিম’র শিশুকাল থেকে আমৃত্যু সৃষ্ট শিল্পকর্ম এবং নাট্যদর্শন ও নাট্যক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্ব মানবতার জয়গান গাইবার যে ইচ্ছা তিনি লালন করতেন তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তথ্যচিত্রটিতে সুনিপুনভাবে।

 

এই তথ্যচিত্রটিতে নাট্যমঙ্গল সেলিম’র জন্মগ্রাম সেনরখিল, শিক্ষালয় মঙ্গলনন্দি স্কুলের সাথে জড়িত তাঁর স্মৃতি এবং জন্মভূমি ফেনীতে তাঁর স্বপ্নের শিল্পতীর্থ ‘ওয়ার্ল্ড কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ ও উদ্দেশ্য ওঠে এসেছে চমৎকারভাবে। প্রকৃত অর্থে দেশজ নাটকের বৈশ্বিক দীশা, তাঁর সামাজিক রাজনৈতিক দীক্ষা, অভিপ্সা, সর্বপরি প্রস্তাবিত ওয়ার্ল্ড কালচারাল সেন্টার’র মাধ্যমে বিশ্বমানবতার জয়গান গাইবার শৈল্পীক যেই পরিকল্পনা ‘নাট্যমঙ্গল সেলিম’ তাঁর মানসপটে যেভাবে ধারন করতেন তাই চিত্রিত হয়েছে উপস্থাপিত তথ্যচিত্রে। নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে তথ্যচিত্রের গ্রন্থিক ড. রুবাইয়াৎ এবং নির্মাতা মেহেদী অনাড়ম্বর কুশলতায় ফ্রেমবদ্ধ করেছেন সার্থকভাবে। নাট্যমঙ্গল সেলিম’র যাপিত জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত অনুষঙ্গসমূহও এই তথ্যচিত্রে সন্বিবেশনের মাধ্যমে মূলতঃ নাট্যমঙ্গল সেলিম’কে পরিপূর্ণভাবে উপলব্দির এক অনবদ্ধ সুযোগ সৃষ্টি করেছে এই তথ্যচিত্র। আগ্রহী সকলকে তা অবলোকনের আহ্বান রইল। যার মাধ্যমে প্রত্যেক শিল্পসমালোচকের সুযোগ সৃষ্টি হবে “নাট্যমঙ্গল সেলিম”কে সামগ্রীক অর্থে অনুধাবনের এবং ব্যাখ্যা করার একটি ক্ষেত্র অবশ্যই প্রস্তুত হবে।

 

অনুষ্ঠান শেষে নাট্যমঙ্গল সেলিম’র প্রিয় সেই জোৎস্নাস্নাত আলোকিত ছাদময় অসংখ্য প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে এক সুন-সান নিরবতায় ৬৭ তম জন্মজয়ন্তীর আয়োজনের সমাপনী টানা হয়। আর চলে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা। ধন্যবাদ আয়োজকদের। কৃতজ্ঞতা সেলিম আল দ্বীন সেন্টার’র সাথে যুক্ত সকল নেপথ্যজনকে। বিশেষ করে আমাকে এই মহতি আয়োজনের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার।

 

পরিশেষে পারিবারিক এই উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সকলপক্ষ বিশেষ করে নাট্যমঙ্গল সেলিম’র প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা থিয়েটার’ এবং বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার’র কার্যকর সম্পৃক্ততা প্রত্যাশা করছি। যাতে করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নাট্যমঙ্গল সেলিম’র নিজবাড়ীর ২য় তলায় প্রবাদ পুরুষ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাছির উদ্দিন ইউসুফ উদ্বোধনকৃত ‘সেলিম আল দ্বীন জাদুঘর’ এবং ‘ওয়ার্ল্ড কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার পারিবারিক উদ্যোগ অনতিবিলম্বে আলোর মুখ দেখতে সমর্থ হয়।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

*