যে কথা রাখা হয়নি

190 views

শামীম রায়হান

 

নিরার সাথে সম্পর্ক এটা কেমন পানসে হয়ে গেছে, দেখা করতে বললে, কাজ আছে। বেড়াতে যেতে বললে বলতো শরীর খারাপ, পাঁচ বছরের সম্পর্ক কিন্তু দেখা হয়েছে পাত্র পাঁচ বার! দিন দিন তিক্ততা আর বিরক্তের চরম একটা মানসিক চাপ নিয়ে অস্থির হয়ে পড়ে ছিলাম। হঠাৎ মোবাইলটা বেজে উঠলো। অপরিচিত একটা নাম্বার! কল ধরতে এক জন বলল, কে শান সাহেব বলছেন? একটু চিন্তা করে বললাম, জ্বি, আপনি কে বলছেন? তখনি একটু ধমকের সুরে বলল আপনি নিরাকে আর বিরক্ত করবেন না, নিরার নাম্বারে কল করবেন না! একটু অবাক হয়ে বললাম, আপনিকে আর নিরার কথা বলছেন! লোকটা বলল আমি নিরার কাজিন, নিরার মানসিক সমস্যা আছে তা নিশ্চই জানেন? একটু রেগে বললাম, আপনার নাম কি? লোকটা বলল, হাসান। এমন হতে পারে জানতাম, তাই ঘটনাটা চেপে গেলাম, নিরা রাতে মিস কল দিল, কল করব কিনা ভাবছি, হঠাৎ নিরা নিজেই কল করলো, প্রথম শব্দটাই কান্না আর চিৎকার, তারপর, একটু চুপ, আবার কান্না, কিছু বলা হলো না, লাইনাটা কেটে গেল। বছর মাস গেছে, রাত দিন গেছে, ভালোবাসার মানুষ অসুস্থ, মানসিক ভাবে অসুস্থতার জন্য তাকে ভুলে যাওয়া কি ঠিক হবে? নাহ, আর না, এবার শেষ করতে হবে, মোবাইলটা হাতে নিয়ে নিরাকে কল দিলাম। নিরা কল রিসিভ করেই হেসে বলল কেমন আছেন? বললাম, ভালো, তুমি কেমন আছো? এখন কোথায়? নিরা বলল, বাসায়, সন্ধ্যায় ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে। আপনি আসতে পারেন! একটু হেসে বললাম, নিরা বিয়েটা করে ফেলো, ছেলেটা ভাল। নিরা একটু দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলল অবশ্যই ভালো, চার বছর প্রেম করে দেখেছি, আপনি ভিতু। আর মানসিক রোগের কথা শুনেও এই ছেলে পক্ষরা বিয়েতে রাজি আছে, তারাতো আপনার চেয়ে ভালো। রাখি আর কোনদিন কল করবেন না। লাইনটা কেটে গেলো।

 

বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছে নিরার, খবরটা শুনে বুকের মধ্যে ব্যথা করে উঠলো। তাড়াতাড়ি মোবাইল নিয়ে কল দিলাম, নিরা কল ধরল না। কয়েক দিন পাগলের মতো ঘুরলাম, নিরার সাথে দেখা করতে, পরিচিত বড় ভাই, বন্ধুদের বললাম, দরকার হলে, নিরাকে তুলে আনবো। সবাই ঘটনা শুনে, জেনে ধিক্কার দিলো আমাকে! এদিকে নিরার নম্বর খোলা, তবে রিসিভ করছে না। সিদ্ধান্ত নিলাম, নিরাদের বাসায় যাব। গাড়িতে উঠেই নিরার ফোন! কল রিসিভ করতেই, নিরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল, বলল, আমাকে নিয়ে যা। প্রচণ্ড মানসিক চাপে মোবাইলটা হাত থেকে পড়ে বন্ধ হয়ে গেলো। মোবাইল চালু করে কল দিলাম। নিরার মোবাইল অফ। এক বন্ধু এসে নিরার বিয়ের কার্ড দিয়ে গেলো, আর বলল,  যাবি কিন্তু, হাজার হোক নিজ প্রেমিকার বিয়ে বলে কথা!  তারপর, সে অনেক কথা, নিরার বিয়েতে গিয়েছিলাম। আমাকে দেখে নিরাদের বাসার সবাই ভয়ে ছিল, সবাই আমাকে চোখে চোখে পাহারায় রাখছিল। বধুর সাজে নিরাকে অসাধারণ লাগছিল, নিরার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই অনেকে ছুটে এলো, নিরা হাত ইশারায় সবাইকে থামতে বলল, তারপর, আমার দিকে তাকিয়ে বলল পাগলামি করবে না। তুমি থাকো, আমার বিদায় পর্যন্ত। আমি হেসে উঠলাম, আর হেসেই চলছি আজো!

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

*