সারাজাত সৌম -এর রুবাইয়াৎ (শেষ পর্ব)

497 views

 

১১

আমার ধুলার বাড়িতে এসে যদি না পাও—
এই মুখ তারপর একা তুমি ফিরে যাও,
ভেবো না আকাশ কুসুম তারা কি ছিলো!
ভবিষ্যৎ দেখার মতো মলিন দেহ এবার পালাও।

 

১২

আমাকে বলো, আমি নষ্ট হয়ে গেছি আজ—
বাতাসের পিছে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত একটি বাজ,
ওই যে, সুন্দর তার পাখা দুটি কি জীবন্ত!
মানুষ ভাবে পৃথিবী এখানে আমাদের কি কাজ?

 

১৩

তুমি তো রোজ এ পথেই আসো বন্ধু আমার—
তবে কি দরকার বলো আমাদের ফুলশয্যার,
নিয়ত সুমধুর গান আর সুর ভরা যে অঙ্গ!
তার দিকে তাকিয়ে দেখি, হাসছে ফুলেরই অঙ্গার।

 

১৪

এসো, তুমি অন্ধকারে ফুটিয়ে তুলো চাঁদের মাস্তানি—
অন্তরে অমা—ব্যথা নিয়ে যাচ্ছো কোথায় মৌলবি?
ভাবি, এ সময় নিয়ত হৃদয় ভেঙ্গে পরার ভয়,
তবু দূরে—সে পাগল ফুল তুলে সাজাচ্ছে ফুলদানি।

 

১৫

সুন্দর, আমি তোর দেহের ভেতর ডুবেই আছি—
কে জানে! কোন নেশায় করছি এমন বাড়াবাড়ি,
আয়রে আয় দূত—যতক্ষণ এই দেহ মজবুত!
আমার জীবন চিনির ভেতর ভবঘুরে ছোট্ট মাছি।

 

১৬

তুমি সেই সুদৃশ্য মদ! আল্লাহ তার প্রস্তুতকারী—
কোনো ভাষায় তো খুলছে না ঠোঁট! আত্মছিপি
আমি কি সেই নাদান বায়ু? অন্ধ কোনো রাত—
যেন এক ভিখারী খুঁজতে এসেছি হারানো স্মৃতি।

 

১৭

কেউ দূরে নাই। ভেতরে এক আমরা, আমি—
পরস্পর বসে সারাদিন কেন করছি কানাকানি!
যেন শব্দের ভেতর এসে এক পাগল ধাক্কা মারে—
বলে, হৃদয় পলকে পল দ্যাখো কি ভীষণ হারামি।

 

১৮

কিভাবে বলি। শোন, আমার কথা আজ—
চুপটি করে থাকিস না—ফেলে কোনো কাজ
তোর নাকের ডগায় ওই যে আলোর পাথর—
আয় চুমুতে আরও ছড়িয়ে দেই কারুকাজ।

 

১৯

কোথাও যাই না আর, পরেছি অনুভূতির অতলে—
কেনো প্রশ্ন করে মরো নিজেই নিজের কাছে!
দ্যাখো, জগৎ ছড়ানো এক সোনালি মাছের ঝাঁক—
তারাও মরে যায় একদিন ডাঙ্গায় উঠে এলে!

 

২০

কিভাবে মাথা রাখি তোমার বয়সের কোলে—
এরা প্রেম, প্রেমের থেকেও আরও আরও বহুদূরে
কি যে চায়! শুধু কি ভয়ে মরি হে নাদ—
এসো, চুমু খাই। তোমার অসহ্য ঋতুর ফুলে ফুলে।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

*