হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন আজ

115 views

ফিচার বিভাগ:

 

নন্দিত লেখক, জনপ্রিয় নাট্যকার এবং চলচ্চিত্রকার, হিমু ও মিসির আলীর স্রষ্টা হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিন আজ (১৩ নভেম্বর)। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে হুমায়ূন আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন।

 

উপন্যাসে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পাওয়া নন্দিত এই লেখক নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রেখেছেন আপন পদচিহ্ন। যার প্রতিটিতেই পেয়েছেন সাফল্যও।

 

১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরপরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে যায় চারদিকে। তার সৃষ্ট ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ চরিত্র তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সববয়সী পাঠকের কাছে হয়ে উঠে অনুকরণীয়। এছাড়া দেশে এমন মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা, যারা তার নাটক দেখেননি।

 

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাসের সংখ্যা দুই শতাধিক। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, লীলাবতী, কবি, সৌরভ, নী, ফেরা, কৃষ্ণপক্ষ, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, অমানুষ, সাজঘর, বাসর, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমনি, দারুচীনি দ্বীপ, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন প্রভৃতি।

 

নন্দিত লেখক-নাট্যকার এবং চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের রয়েছে আলোচিত কিছু চরিত্র।

 

বাকের ভাই: ‘কোথাও কেউ নেই’ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্রের নাম বাকের ভাই। পরে এই উপন্যাসটি অবলম্বনে ধারাবাহিক নাটক নির্মিত হয়। বিটিভিতে প্রচারিত হয় নাটকটি। বিটিভির ইতিহাসে আলোচিত কয়েকটি নাটকের একটি ‘কোথাও কেউ নেই’। একইভাবে এই নাটকে বাকের ভাই নাটকের ইতিহাসে একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী চরিত্র। কোনো নাটকের চরিত্রকে কেন্দ্র করে এতো সাড়া কখনো এই দেশে পড়েনি। নাটকে বাকের ভাইকে যখন ফাঁসি দেওয়া হবে, সে সময়ে ঢাকাসহ দেশে বেশ কয়েকটি স্থানে মিছিল পর্যন্ত হয়েছিলো। বাকের ভাই চরিত্রে অভিনয় করে তারকাখ্যাতি পান আসাদুজ্জামান নূর।

 

মিসির আলী: নাটক ও চলচ্চিত্রে রূপদানের আগে পাঠকরা মিসির আলী নামের সঙ্গে পরিচয় হন উপন্যাসের মাধ্যমে। হুমায়ূন আহমেদ তার মিসির আলীকে নিয়ে বেশ কয়েকটি উপন্যাস লিখেছিলেন। মিসির আলী চরিত্রের সবচেয়ে বড় দিক- মিসির আলী যুক্তি দিয়ে যেকোনো বিষয়ের সমাধান করেন। একসময় মিসির আলীকে নাটকে নিয়ে আসেন হুমায়ূন আহমেদ।

 

হিমু: হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র হিসেবে হিমুর অবস্থান প্রথমে। হিমুকে নিয়ে প্রথম লেখা উপন্যাস ‘ময়ূরাক্ষী’। অনন্যা থেকে এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিলো আশির দশকে। সেই থেকে হিমুকে নিয়ে যতো উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে সবগুলি জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করেছে। হিমুকে অনুসরণ করে এখনো একুশে বই মেলার সময়ে হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে ঘুরে বেড়ান অনেকে। এখনো বিভিন্ন সময় শহরে কখনো কখনো হিমুর দেখা মেলে।

 

মফিজ পাগলা: ‘সবুজ ছাতা’ নাটকে মফিজ পাগলা চরিত্রটিও সেসময়ে খুব আলোচিত হয়েছিলো। মফিজ পাগলা চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে সবার কাছে মফিজ পাগলা নামে পরিচিতি পান জাহিদ হাসান।

 

১৯৯০-এর গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণি মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। নাটক সিনেমায় তাঁর রচিত অনেক গান বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তিনি ছবি আঁকতেও ভালোবাসতেন।

 

সাহিত্য সংস্কৃতির বিভিন্নক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং শিশু একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৪ সালে একুশে পদক, ১৯৯৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ কাহিনি, চলচ্চিত্র ও সংলাপ বিভাগে), ১৯৭৩ সালে লেখক শিবির পুরস্কার, ১৯৮৭ সালে মাইকেল মধুসূদন পদক, ১৯৮৮ সালে বাচশাস পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার ও জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদকসহ অসংখ্য পুরস্কার সম্মাননায় ভূষিত হন।

 

২০১২ সালের ১৯ জুলাই মলাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ নয় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর নিউ ইয়র্কের বেলেভ্যু হসপিটালে বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদপুরুষ মৃত্যুবরণ করেন।

 

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

*